ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কতিপয় সুপারিশ
ড: মিহির কুমার রায়: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এ খাতে সুশাসন সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে অনেক উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে বলে অর্থনীতিবিদগন মনে করেন। কিন্তু গবেষনায় দেখা যাচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত যেমন সুশাসনের অভাব এবং এ খাতের জন্য প্রণীত নীতিমালা, আইন কানুন, কোম্পানি আইন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা ইত্যাদি সঠিকভাবে পরিপালন করা হয় না কিংবা নিয়ম-কানুন আন্তর্জাতিক মানের, কিন্তু এগুলো সঠিকভাবে অনুসৃত হচ্ছে না। ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি দায়িত্ব বিবেচনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংজ্ঞায় স্বচ্ছতা হলো এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি, যেখানে মুদ্রা ও আর্থিক নীতি-সম্পর্কিত সব তথ্য সময় সময় জনগণকে বোধগম্য উপায়ে জানানো। সামষ্টিক অর্থনীতিতে টেকসই সুশাসন ও সার্বিক আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকারি কার্য পরিচালনায় স্বচ্ছতা বিধান এর পূর্ব শর্ত। জবাবদিহি হলো পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি বা বেসরকারি কোনো এজেন্ট কর্তৃক সুলভে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান। আর্থিক বাজারে অংশগ্রহণকারী প্রধান গোষ্ঠী ঋণ দাতা-ঋণ গ্রহীতা, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, জাতীয় কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতির যথার্থ উদাহরণ এদেশে রয়েছে যেমন রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোয় এ সমস্যা সবচেয়ে প্রকটঁ যদিও বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এর বাইরে নয়।
ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করতে ২০২৩ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি ব্যাংকের সোয়া ৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমানো হবে অর্থাৎ এ টাকা খেলাপিদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি করেছে।
এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে যার কারণে প্রভিশন ও মূলধনের পর্যাপ্ততা সঠিক মানে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আগামী দিনে অধিক পরিমাণ ভালো ঋণ দেয়া হবে। পাশাপাশি নগদ আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনা হবে। সেখানে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে সোনালী ব্যাংক ৪৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আর আগামী অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা এবং পরবর্তী অর্থবছরে এক হাজার কোটি টাকা। একইভাবে অগ্রণী ব্যাংক এই অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমাবে। আগামী ও পরবর্তী অর্থবছরে যথাক্রমে হ্রাস করবে ৫০০ ও ৫৫০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ৪৫০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জনতা ব্যাংক। আর আগামী অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা এবং পরবর্তী অর্থবছরে এক হাজার কোটি টাকা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে ব্যাংকটি।
ব্যাংকগুলোর মতে, খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধির কারণে মূলধন সংকট সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার সঠিক পর্যায়ে রাখা যাচ্ছে না। এর আগের তিন বছরে (২০১৭-২০১৯) রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ কমিয়েছে ৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা যা অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া গেছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসেবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) হিসেবে প্রকৃতপক্ষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ যে পর্যায়ে আছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যেমন সজ্ঞা পরিবর্তন করা হচ্ছে, ঋণের সুদ হার হ্রাসের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু মূল সমস্যাগুলো অধরাই রয়ে গিয়েছে, অন্তর্নিহিত দুর্বলতাগুলো থেকে যাচ্ছে, প্রকৃত কার্যকারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে না, করদাতাদের টাকা দিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর পুনঃপুঁজীকরণ করতে হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংক খাতে আস্থা আনার জন্য যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে যে সক্রিয়তা প্রয়োজন, তার ঘাটতি রয়েছে। ফলে ঋণের ওপর সুদের হার হ্রাস করার যেসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তা কার্যকর হচ্ছে না। সঞ্চয়ের ওপর সুদের হার এবং ঋণের হারের ওপর সুদের হারের মধ্যে পার্থক্য (স্প্রেড রেট) কমানো যাচ্ছে না। দুঃখের বিষয়, যে ধরনের সুদৃঢ় পদক্ষেপ এবং জিরো টলারেন্স নিয়ে খেলাপি ঋণের বিষয়টিকে মোকাবেলা করা উচিত, সে ধরনের উদ্যম ও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং কিছু পদক্ষেপ, যেমন একই পরিবার থেকে পরিচালক নিয়োগের সংখ্যা ও মেয়াদকাল, খেলাপি ঋণের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের নামে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং রেয়াত ইত্যাদি ব্যাংক খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নিরিখে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ঋণ খেলাপির কার্যকারণ নির্দিষ্ট করে খেলাপিদের ভাগ করা, কারা বিভিন্ন সুবিধা নিয়েও ঋণ খেলাপি থেকে যাওয়াকেই ভালো ‘বিজনেস মডেল’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করা, আইনের সংস্কার ও প্রয়োগ এসব বিষয়ে কোনো উদ্যম দেখা যাচ্ছে না। এর বিপরীতে বরং বড় ও ধারাবাহিক ঋণ খেলাপিরা বিভিন্ন প্রণোদনা পাচ্ছেন। ফলে যারা ভালো ঋণ গ্রাহক, তাদের জন্য এক ধরনের নৈতিক বিপত্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এমন প্রবণতা সুষ্ঠু আর্থিক পরিবেশ গড়ে তোলার পেছনে বড় প্রতিবন্ধক।
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে এবং নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পথ বন্ধ করতে হবে, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে তা যথাযথ পর্যালোচনা করতে হবে, প্রদত্ত ঋণকে যথাযথ তদারক করতে হবে, এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় আইন, গাইড লাইন এবং নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, ব্যাংক খাতের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন, গাইডেন্স এবং তদারকি বাড়াতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকেও দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে এবং ব্যাংক সেক্টরের উন্নয়নের স্বার্থেই বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে। অধিকন্তু অর্থ ঋণ আদালতসহ আইনি প্রক্রিয়াকে আরো উন্নত এবং সংস্কার করতে হবে, যাতে আইনের সাহায্য নিয়ে খেলাপি ঋণ আদায় করা যায় এবং ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। তাছাড়া গ্রাহককে যেন তেন প্রকারে ঋণ প্রদান করে মুনাফা অর্জনের টার্গেট ব্যাংকগুলোকে পরিহার করতেই হবে, মুনাফা অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ব্যাংক সেক্টরকে বিশাল ক্ষতির মুখোমুখি করতে ব্যাংকগুলোকে তাদের ঋণ নীতিমালা পুনর্বিন্যাস করতে হবে এবং ঋণকে বিভিন্ন সেক্টরে বণ্টন করতে হবে।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন শক্তিশালী করতে হলে বিদ্যমান আইনের সংস্কার প্রয়োজন এবং তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে কিছু উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে, যেমন ঋণ পুনরুদ্ধার কোম্পানি গঠন করে খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা। এসব উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন ঋণ খেলাপিরা দেখবে যে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে এবং কাউকেই অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হোক, প্রস্তাবিত কমিশনের ম্যান্ডেট হতে পারে নিম্নের বিষয়গুলোর ওপর সুচিন্তিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ চিহ্নিত করা, খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য সমস্যার মূল চিহ্নিতকরণ; আইনি কাঠামোর সংস্কার; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা বিধান; ব্যাংক বোর্ড গঠনের জন্য নীতিমালা; আইন প্রয়োগে সমস্যার চিহ্নিতকরণ এবং আইনের পরিবর্তন। কমিশন ব্যাংক খাতের দক্ষ, যুগোপযোগী ও সুশাসনভিত্তিক পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দেবে। সরকারকে সেসব পরামর্শ বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। আর্থিক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এখন খেলাপি ঋন আদায়ে ও সুশাসনে যেসকল বিষয়গুলো সুবিবেচনায় আনার প্রয়োজন রয়েছে তা হলো:
প্রথমতঃ ঋন বিতরন ও আদায়ে সমতা বিধান করা। ঋন বিতরন যদি স্বচ্ছতার সাথে উৎপাদনশীল খাতে হয় তাহলে আদায়ের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে ব্যাংকার কাষ্টমারের নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যারা অসাধুতাকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত করে তারাই উভয়ই সমান দোষী। এ ব্যাপারে প্রথমে ব্যাংকারদের সর্তক হতে হবে এবং পরিবর্তিতে গ্রাহকদেরও এই পথ অনুসরন করতে হবে;
দ্বিতীয়ত: দেশের ৩৯টি বেসরকারি ও ৪টি সরকারি বানিজ্যিক ব্যাংক সাধারনত আর্থিক বাজারের অংশ হিসাবে স্বল্প মেয়াদে গৃহীতাদের ঋনের চাহিদা পূরন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এই ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে চার পাচ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋন দিয়েছে যার বেশির ভাগ খেলাপী ঋনে পরিনত হয়েছে। এখন বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে ঋন দেয়া এবং ঋন খেলাপী হওয়ার মত একটি যাতনাকে বয়ে বেড়াচ্ছে যার ফলাফল তারল্য সংকট, মুনাফার ঘাটতি ও ইমেজ সংকট। অথচ দীর্ঘ মেয়াদে বৃহদায়কার ঋন প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক যেমন বাংলাদেশ ডেবোলপমেন্ট ব্যাংক ( বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ( বিকেবি), বেসিক ব্যাংক, রাকাব ইত্যাদি রয়েছে যারা সরকারি ব্যাংক হিসাবে সরকারের সাহায্যপুষ্ট হয়ে বেশি সময়ের অর্থায়নে অংশ নিতে পারে। এই অসংগতিগুলো দুর করা প্রয়োজন।
তৃতীয়তঃ ব্যাংকিং খাতের বৃহদাকার ঋনগুলোর স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মুল্যায়ন না হওয়ায় অনেক অনগ্রাধিকার কিংবা অলাভজনক খাতেও ঋন বিনিয়োগ হচেছ যা পরবর্তিতে খেলাপী ঋনে পরিনত হয়। আবার রাজণৈতিক বিবেচনায় অনেক লোন মঞ্জুর করা হয় যার বেশির ভাগ অনুৎপাদশীল খাতে চলে যায় যার পরিণতি হয় খেলাপী ঋন। এখন গনতান্ত্রীক সমাজে রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে বিচরন করলেও অন্তত ব্যাংকিং এর মত সেবাধর্ম্মী আর্থিক খাতটিকে রাজনীতি মুক্ত রাখা যায় না কেন? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের অভিবাবক হিসাবে তার সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে না কেন?
চতুর্থতঃ ঋন মওকুফ, ঋনের পুনঃতফসীলিকরন, ঋনের অবোলপন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখন খুবি ক্ষতিকর ও অলাভজনক। এখন ব্যাংকও ঢালাওভাবে সবাইকেও সুযোগ দিতেও পারে না। কিংবা ঢালাওভাবে বিবেচনায়ও আনতে পারে না। কিন্তু জায়গাটিতে ব্যাংকার কিংবা ব্যাংকিং সুসাশসনের অভাব পরিলক্ষিত হয় যা কোন ভাবেই প্রতিষ্ঠিত করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা, প্রশাসনিক সমর্থন ইত্যাদি তফসিলি বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য খুবি জুরুরি।
সর্বশেষ বলা যায় সরকার যদি সচেষ্ট হয় তবে সামাজিকভাবে এই সকল খেলাপি ঋনের মোকাবেলা করাও সম্ভব আবার প্রশাসনিকভাবেও সম্ভব। এখন কোনটি ভাল হবে তা কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবে তবে সমস্যার অবশ্যি শান্তিপুর্ণ সমাধান চাই ব্যাংকিং শিল্পের স্বার্থে।
লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
বিনিয়োগবার্তা/এমআর/ডিএফই/এসএএম//



