চলমান মূল্যস্ফীতির বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে করনীয়
ড: মিহির কুমার রায়: ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মাসেই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে পৌঁছার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। এ কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ সহসাই কমবে না বলে ধরে নেওয়া যায় মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; উপরন্তু মুদ্রা বাজারে লক্ষ করা যাচ্ছে অস্থিরতা। সরকার অবশ্য সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে এ বছর চালের উৎপাদন কম হয়েছে; বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমনের চাষ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে, চলতি অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতির হার ৫.৩ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তা ধরে রাখা যায়নি, সরকারের বক্তব্য হলো বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে; বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সমন্বয় করতে দেশে এর দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অনিবার্যভাবেই পণ্য ও সেবা খাতের ব্যয় বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির হারে উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মুদ্রার মানের ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে আর মুদ্রার মান স্থিতিশীল থাকবে সেটি হবে না। অন্যান্য দেশের সমতালে মূল্যস্ফীতি হলে দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন বেশি হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি বিষয়ই কিছু সূত্র মেনে পরিচালিত হয়। এখানে সব জিনিসের দাম বাড়বে আর মুদ্রার মান শক্তিশালী হবে বা ক্রয়ক্ষমতা ঠিক থাকবে, তা তো হবেনা। অন্যান্য জায়গায় ও বাংলাদেশে সমতালে মূল্যস্ফীতি বাড়লে তাহলে মুদ্রার মান ঠিক থাকবে। ডলারের চাহিদা ও সরবরাহ ছাড়াও উৎপাদনশীলতা, উৎপাদিত পণ্যের দামের স্থিতিশীলতা থাকতে হবে আর বাংলাদেশে যা হয়েছে তা হলো স্ট্যাগফ্লেশন। বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বড় সমস্যা-চ্যালেঞ্জ হিসাবে বিবেচ্য। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নির্দয় প্রভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত-অনিশ্চয়তায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য দ্রব্যের উচ্চমূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জুনে প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বৈশ্বিক মহামন্দার কারণে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির সতর্কবার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে মন্তব্য ছিল-বিশ্ব দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির একটি প্রলম্বিত সময়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে।
ভিনা গাথাসান (২০১৩)–এর মতে, কোনো দেশের মুদ্রাস্ফীতি যদি ৫.৪৩ শতাংশের বেশি হয়, তা অর্থনীতির উন্নতিকে বিপরীত ধারাতে নিয়ে যায়। বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের জিডিপির উচ্চগতি নিয়ে দেখিয়েছে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জিডিপি এসেছে মূলত ২০০২ থেকে ২০০৮–এ বিদেশি অর্থায়নে, বেশ কিছু সংস্কারমূলক কাজ করার ফলে এবং এত দিন কোনো নতুন সংস্কার না করে একটা মাত্র রপ্তানি পণ্য দিয়ে এই ধারাটিকে থাকাটা বিশ্ময়কর। এই সংস্কারের গাইডলাইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল(আইএমএফের) বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছে আরও কিছু দিনের জন্য যদিও বাংলাদেশ সংস্কারমূলক কাজের জন্য কতটুকু প্রস্তুত? সরকারি হিসাবে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশ–এর আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও প্রকৃত মুদ্রাস্ফীতি বেশি। বাংলাদেশ অনেক দ্রব্যের দামের সঙ্গে প্রথম বিশ্বের পণ্যের দামের খুব বেশি পার্থক্য আর নেই। এর মধ্যে সরকার বন্ডের বিপরীতে টাকা ছাপিয়ে মার্কেটে ছাড়ছে ২০২০ থেকেই। এই বিপুল সংখ্যক টাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া আর মুদ্রাস্ফীতি বাড়ানো ছাড়া কি কাজে লাগছে? বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সারাবিশ্বেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। আমেরিকায় ৪৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে, অন্যদিকে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির শিকার হয়েছে কানাডা, এছাড়া জার্মানির মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২৯ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে বাঁচানোর উপায় ছিল রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় এবং দেশের মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা, কিন্তু রেমিট্যান্স গত বছরের এ সময়ের থেকে কম আসছে, গার্মেন্টসের ওয়ার্ক অর্ডার কমেছে ১০ শতাংশ এবং রপ্তানি আয় গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় কমেছে ৭.৫২ শতাংশ, রপ্তানির সব টাকা ফেরত আসছে না যা গত তিন অর্থবছর থেকেই আার বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে ফ্যাক্টরিগুলো এখন ৪০-৬০ শতাংশ ক্ষমতায় কাজ করতে পারছে আর জাতীয় সঞ্চয় ২০১৯ থেকেই প্রতিবছরেই কমছে কেবল মুদ্রাস্ফীতির কারনে।
আর একটি দেশের মূল্যস্ফীতির তুলনায় অন্য একটি দেশের মূল্যস্ফীতি বেশি হলে সে দেশের মুদ্রা তুলনামূলক শক্তি হারাবে, এটা অর্থনীতির একটি মৌলিক নিয়ম। বাংলাদেশের মুদ্রা বিনিময় হার ডলারের সঙ্গে দীর্ঘদিন সমন্বয় করা হয়নি, দীর্ঘদিন কৃত্রিম ভাবে রফতানিকে উৎসাহিত করা হয়েছে আমদানিকে নিরুৎসাহিত করে, জাতীয় শিল্পের স্বার্থে অতীতে টাকাকে দীর্ঘদিন অতি মূল্যায়িত রাখা হয়েছে যা স্বাধীনতার পর সময়ে ১ ডলারের অফিশিয়াল মূল্য কৃত্রিমভাবে ধরা হয়েছিল মাত্র ৪.৭৬ টাকা। ধরা যাক যুক্তরাষ্ট্রে ১ ডলার দিয়ে কতটুকু পণ্য পাওয়া যায় এবং ডলার সংকট শুরু হওয়ার আগের ১০ বছর দেশটিতে গড়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ১.২ শতাংশ আর বাংলাদেশে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৬ শতাংশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে দীর্ঘদিন মান হারাচ্ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ সেটিকে কৃত্রিম উপায়ে ধরে রেখেছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৪-৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায় যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৮.৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও এখন বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি, যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এদিকে ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়ে যাচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। ব্যাংকটি টানা তৃতীয় বারের মতো মূল সুদের হার তিন-চতুর্থাংশ বা ০.৭৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে তিন থেকে তিন দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত করেছে, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ। এদিকে নীতি নির্ধারকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে, যা জুনের পূর্বাভাস থেকে অনেক বেশি। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুদের হার বাড়ানোর ফলে ঋণের খরচ আরও বেড়ে যাবে, এতে করে ডলার আন্তর্জাতিকভাবে আরো ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে ও ফেডের সুদের হার বাড়ানোয় বাংলাদেশের টাকার মান আরো কমে যাবে। অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে দেশভেদে মূল্যস্ফীতি আকাশছোঁয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও বিদ্যমান। যেমন তুরস্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনার চেষ্টা করছেন। শ্রীলংকার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চরম অব্যবস্থাপনা ও কৃষিনীতি সংস্কারকে দায়ী করা হয়েছে। যাই হোক না কেন, অর্থনীতির মধ্যে মূল্যস্ফীতি সাধারণ অর্থে সবচেয়ে কম বোধগম্য একটি বিষয়। অতীতের উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঘটনাগুলো, যেমন ১৯২৩ সালে জার্মানি ও ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরিতে সংগঠিত রেকর্ড ভাঙা মূল্যস্ফীতি কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকা ও অফ্রিকার কিছু অংশে সংঘটিত মূল্যস্ফীতির ঘটনাগুলো ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান কিন্তু আমাদের রয়েছে।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বাইরে থেকে আসা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। অবশ্য গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৭.৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত নয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি যে বাড়বে তা সহজেই অনুমেয় ছিল। গত জুন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশেই মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১ শতাংশ। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে এ হার যথাক্রমে ৭ ও ২১ শতাংশ। উন্নত দেশগুলোর অবস্থাও বেশ শোচনীয়। ওইসিডিভুক্ত (অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) দেশগুলোয় গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৬ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় মূল্যস্ফীতি ৬০ শতাংশের উপর চলে গেলে সে দেশের অর্থমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তুরস্কে গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৮০ শতাংশ ছুঁয়েছে। গত জুলাইয়ে শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি ৬০ শতাংশের ওপর চলে গিয়েছে। কাজেই মূল্যস্ফীতি এখন ভীতিকর বৈশ্বিক সমস্যা। তাছাড়া জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি বরাবরই তুলনামূলক একটু বেশি থাকে বিশেষত বন্যা ও বৃষ্টির কারণে সরবরাহে একটু ঘাটতি থাকে। শুকনো মৌসুম শুরু হলে বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। বিশ্ব বাজারে এখন খাদ্য সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে খাদ্য পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্য মূল্যসূচক জুনে টানা তিন মাস ধরে কমছে, তেলের বাজারেও দাম পড়তে শুরু করেছে। অপরিশোধিত তেল এখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে চলে এসেছে। কাজেই বলা যায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে ও বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য কমতির দিকে।
বাংলাদেল সরকার আগাম সতর্কতা হিসেবে কয়েক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যেমন প্রকল্প অনুমোদন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রাধান্য নির্ধারণ, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কঠোর অবস্থান, গাড়ি ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা, আমদানির ক্ষেত্রে ৩ মিলিয়ন ডলারের উপর এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি, বিদ্যুৎ ব্যবহার সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, সরকারি অফিসে ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ কমানো, রাত ৮টার পর শপিংমল বন্ধ রাখা, পেট্রল পাম্পগুলোয় তেলের সরবরাহ সীমিত রাখা, সরকারি সভায় যথাসম্ভব শারীরিক উপস্থিতি পরিহার করে অনলাইনে সম্পন্ন করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি ও টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো, মানি চেঞ্জারগুলোকে সতর্ক পরিবীক্ষণে আনা। সরকার গত দেড় দশক ধরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে যার কারণে ২০০৭-০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব, ২০১১ সালের বৈশ্বিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কভিড-১৯ সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে, করোনার সময়ে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ যেখানে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছিল সেখানে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম ছিল, ছিল ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এ তো গেল অর্থনীতির হিসাব।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণায় সতর্কতামূলক কিছুটা সংকোচনমুখী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার ওপর জোর প্রদান করবে, বাজেটে জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৭.৫ শতাংশ এবং ৫.৫ শতাংশ। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা (১২.১ শতাংশ) তুলনামূলক কম ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিহার রেপো রেট ৫০ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিক থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকার প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, বাজেটের আগে সরকার মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনীতির নীতি বিবৃতি দিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে কভিড-১৯ পুনরুদ্ধারের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলে নিম্ন সুদের হার প্রচলন এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, গরিব, দুস্থ, বেকার ও অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিতদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তিমত্তা সব চ্যালেঞ্জ সত্বেও অটুট রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে যাতে বিপর্যয় নেমে না আসে, সেজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও মনোযোগী হবে এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।



