রমজান, ইফতার, রাজনীতি ও সমাজচিত্র
ডঃ মিহির কুমার রায়: লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করি সেই মহান রাব্বুল আল আমিন আল্লাহর, যিনি আমাকে, আপনাকে, সারা পৃথিবী আসমান জমিনসহ জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা জিন এবং ইনসানকে (মানুষ) সৃষ্টি করেছেন শুধু তার ইবাদত করার জন্য। এ মাসেই পবিত্র কুরআনুল কারিম নাজিল করা হয়েছে। (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৫)। এ মাসের ইবাদত বন্দেগির ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের সুসংবাদ দিতেন। রজব ও শাবান মাসজুড়ে রমজানের ইবাদত-বন্দেগির জন্য নিজেকে তৈরি করতেন, দোয়া পড়তেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে দোয়া করতে বলতেন। রমজান মাসে রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হয়। এ মাসের জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং শয়তানকে বন্দি করে রাখা হয়। রমজানের রাত ও দিনে মুসলমানের দোয়া অনবরত আল্লাহর দরবারে কবুল করা হয়। কুরআনের ঘোষণায় এ মাসে রয়েছে বরকতময় লাইলাতুল কদর। এ মাসে প্রতি রাতে ক্ষমা লাভে ফেরেশতারা মানুষকে আহ্বান করতে থাকে। এ পবিত্র মাসেই আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের প্রথম সমর অভিযান বদরে বিজয় দান করেছিলেন। রমজান মাসে উমরা আদায় আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে হজ পালনের সওয়াব পাওয়া যায়। সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহ কুরআন ও হাদিসের আলোকে একমত যে, রমজানের রোজা ফরজ। তাই ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম একটি।
২৪ শে মার্চ, ২০২৩ ইং সন থেকে রজমান মাস শুর হয়েছে, আগামী ২৩ এপ্রিল, ২০২৩ ইং এই পবিত্র মাসের পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবছরই একটি তিথিতে এই মাসটি আসে যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যবৃন্দ সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মাসটিকে বরণ করে নেয় সৃষ্টিকর্তার (আল্লাহ্) নৈকট্য লাভের আশায়। এই মাসের প্রধান উদ্দেশ্য শরীয়তের নির্দেশিত পন্থায় রোজা আদায়ের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা। তাকওয়া হলো মহান অল্লাহকে জীবনের সর্বাবস্থায় হাজির-নাজির জেনে তার আদেশকৃত বিষয়গুলোকে মান্য করা আর নিষেধকৃত বিষয়গুলোকে ত্যাগ করা অর্থাৎ নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ অন্য ইবাদতগুলো ঠিক নিয়মে একাগ্রচিত্তে নিয়মিত আদায়কৃত আল্লাহর ভয়ে জীবনের প্রতিক্ষেত্রে মিথ্যা বলা, গীবত করা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, প্রতারনা, ঘুষ, দুর্ণীতি, ধর্ষন, খুন, সন্ত্রাস ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার নামই হলো তাকওয়া (সুরা-হায়াত, আয়াত:৭)। রমজান মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সুবেহ সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, অশ্লীলতা, যৈানবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত থাকার নামই রোজা। এই রোজাই একজন প্রকৃত রোজাদারকে তাকওয়ার পর্যায়ে পৌছে দেয়, মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভুতি ও ভালবাসা রোজার মাসের প্রকৃত শিক্ষা। রমজানের শিক্ষাগুলো বাকি মাসগুলোতে ধরে রাখতে পারলে একজন মুসলিম হতে পারে পরিপুর্ণ মুসলমান। সরকারীভাবেও অফিসের সময়সূচিতে এই মাসে সময়তে কিছুটা সংকোচন করা হয় যাতে অফিসে কর্মরত রোজাদারদের তাদের রীতিনীতি পালনে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয় এবং পরিবারের সকল সদস্যদের কাছে নির্ধারিত সময়ে বাসায় ফিরতে পারে। এই মাসটিকে বলা হয় ত্যাগের মাস এবং উপবাস, ইফতার, তারাবির নামাজ ও সেহরি খাওয়া প্রভৃতি এই মাসের প্রধান কাজগুলোর অন্যতম। আবার দেশের ধর্মীয় সংগঠন যেগুলো মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন তাদের কাছে এই মাসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন বিশেষত: রমজানের অন্তর্নিহিত বার্তা সমাজে প্রচার, দুস্থদের মধ্যে ইফতার বিতরণ, সংগঠনভিত্তিক ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত করা, ইসলামী অনুশাসনের ব্যাপারে প্রচার/প্রসার ইত্যাদি।
আবার ভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন যেমন বৌদ্ধ বিহার, রামকৃষ্ণ মিশন ইত্যাদি পবিত্র রমজান মাসে দুস্থদের জন্য ইফতার, বস্ত্র বিতরণসহ আরও আনুসাঙ্গীক কাজ পরিচালনা করে থাকে। ইতিহাসের পাতায় দেখা যায় উপমহাদেশের ধর্মীয় ভিত্তিতে দেশবিভাগ আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের ভূগোলকে পরিবর্তন করে দিয়েছে যার অংশ হিসাবে দেশ ত্যাগ ছিল একটি বড় বিপর্যয় যা বাংলাদেশ ভারত যৌথ প্রযোজনায় পরিচালিত/নির্মীত শঙ্খচীল চলচ্চিত্রে প্রস্ফুটিত হয়েছে। বেশ কিছু সময় আগে বণিক বার্তায় একটি খবর পরিবেশিত হয়েছিল যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। ঘটনাটি ঊনিশশত একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ের যখন খুলনার ফুলতলা থানার বোস (হিন্দু) পরিবার পশ্চিম বঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাশতের একটি পরিবারের (মুসলিম) সঙ্গে সম্পত্তি বিনিময় করে ভারতে চলে আসে। বিনিময় সূত্রে বোস পরিবারটি মুসলিম ধর্মালম্বী পরিবারটির থেকে যে সম্পত্তি বিশেষত: বাড়ী, জমি পেয়েছিল তারি সীমানায় এককোনায় একটি জড়াজীর্ণ মসজিদ ছিল যা আবিস্কৃত হয়েছিল। সেই বোস পরিবারটি ঘরটিকে নূতনভাবে মেরামত করে ঠিক সেই জায়গায় সেটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। বিগত চার দশকের বেশি সময়ের পথ পরিক্রমায় এই মসজিদটি বোস পরিবারের ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে জেলায় সুনাম অর্জন করেছে এবং প্রতিটি রমজান মাসে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ অনেক ব্যতিক্রমী ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় এই প্রতিষ্ঠানটি ব্রততার মধ্যে মসজিদ আঙ্গীনায় ইফতার বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা, সেহরীর আয়োজন উল্লেখযোগ্য। একটি মসজিদ কমিটি বোস পরিবারের তত্বাবধানে সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে আছে এবং তারাই ইমাম নিয়োগসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজগুলো পরিচালনা করে থাকে। কোন ধরনের ধর্ম ব্যবসা এই প্রতিষ্ঠানে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্য ধর্মালম্বীরাও তাদের আচার আচরণে এই মসজিদের স্মরণাপন্ন হয় যেমন কোন মৃত ব্যক্তির লাশ শ্বশানে নেয়ার আগে মসজিদ প্রাঙ্গন হয়ে তারপর সৎকারের প্রস্তুতি নেয়া হয় যা জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
রমজান মাসের একত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর ইবাদত, প্রার্থণা, ত্যাগ, সামর্থ সাপেক্ষে দান খয়রাত, ফেতরা সর্বোপরি মাগরিবের নামাজের আগে ইফতার করা। সময়ের আবর্তে ইফতারের অনেক রূপান্তর ঘটেছে যাকে বলা হয় একটি বিশেষ মাসের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান তথা একটি লাভজনক শিল্প যা অনেক ক্ষেত্রে তা বিজ্ঞাপনেও স্থান করে নিয়েছে। এখন নামী দামী রেস্তোরা ও মিষ্টির দোকানে ছাড় ও ইফতারের আইটেমগুলো নিয়ে ব্যানার দিয়ে দোকান সাজিয়ে থাকে অনেকে যা কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও বৈচিত্রময় বটে। ঢাকার গুলশানের ধানসীড়ি হোটেলে একবার ইফতারের দাওয়াত হয়েছিল যা সত্যি সত্যি চমকপ্রদ বিশেষত: গুণগতমানে, আইটেমের বৈচিত্রে ও স্বাদে গন্ধে। যে সকল সংস্থা প্রতিষ্ঠানিকভাবে রোজাদারদের জন্য ইফতারের আয়োজন করে থাকে তাদেরকে নির্দিষ্ট মানের ইফতার সরবরাহকারী হোটেল রেস্তোরা অগণিত যা একটি রমরমা ব্যবসা। যদি ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় করি তাহলে ইফতার তৈরীতে পুরান ঢাকা এখনও অদ্বিতীয় যা প্রতিদিনের সংবাদ প্রচারে আমার টেলিভিশনের পর্দায় অবলোকন করি। কিন্তু এক সময় ছিল যখন ইফতার কেবল পারিবারিক গন্ডিতেই তৈরীতে সীমাবদ্ধ ছিল সনাতনী উপাদানে যার মধ্যে বেশীরভাগই ছিল আত্মীক ও ধর্মীয় অনুভূতির মহিমায় মহিমান্ডিত যার স্বাদই ছিল আলাদা। সেই জায়গাটি এখন দখল করে নিয়েছে বাণিজ্য এবং শহরেরে জীবনে ইফতার তৈরী এখন আর পরিবারে না হয়ে সবাই বাহ্যিকমুখী হোটেল রেস্তোরায় তৈরী খাবার গ্রহণ করতে বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সত্যি কিন্তু সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত কিনা, ব্যয় সাশ্রয়ী কিনা, পরিবেশবান্ধব কিনা ইত্যাদির বিবেচনা অনেক দূরে সরে গেছে।
টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই সকল ইফতার তৈরীর সামগ্রীতে ভেজাল তৈল, রং, পানি, মসলা ব্যবহৃত হচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু রেস্তোরা মালিক কর্তৃক যা অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট কর্তৃক দন্ডিত হচ্ছে অথচ এই সকল ইফতার সামগ্রী বাজার থেকে ক্রয় না করে ঘরেও তৈরী করতে বাঁধা কোথায় কেবল যদি একটু সদিচ্ছা যোগ করা যায়। এথন বসন্তকাল বিধায় অধিক গরম না হলেও রোজাদারদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে যদিও প্রচার মাধ্যমে চিকিৎসকগণ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বাহিরের ভেজাল তৈরী ইফতারের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মনোযোগ দেয়া, ডায়বেটিস রোগীদের উপবাস কিংবা ইফতারের বাধ্যবাধকতা, রাস্তায় তৈরী পানীয় জলখাবারের প্রতি আসক্তি কমানো ইত্যাদি। তারপরও রমজান মাসে ইফতার খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে যাওয়া রোগীর সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। তার একমাত্র সমাধানের পথ হতে পারে ঘরমুখী ইফতার ব্যবস্থা হোটেল রেস্তোরামুখী নয়। এই রোজার মাসের সেহরী খাওয়াও অনেকটা হয়ে গেছে রেস্তোরামুখী বিশেষত: ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে যা আধুনিকতার আরও একটি রূপ। তার অর্থ এই দাড়ায় যে আমরা বাজার অর্থনীতির চাপে পড়ে পরিবারের বন্দনা থেকে ছিটকে পড়ছি যা অনেকটা বাহ্যিকমুখী অথচ সারাদিন রোজা শেষে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে এক টেবিলে মোনাজাতের পর ইফতার খাওয়ার আমেজই আলাদা। এখন রোজা নিয়ে মসজিদভিত্তিক বির্তকও লক্ষনীয় অর্থাৎ এটার সাথে তারাবির নামাজ মসজিদে উপস্তিত হয়ে পড়তে হবে কিনা? পড়লে কয় রাকাত আট না বিশ? প্রথম রজমানের শুরুতে মসজিদে ভীড় বাড়ে আবার আস্তে আস্তে তা সীমিত হয়। বেশ কিছুদিন যাবত আরও একটি বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে যা হলো ইফতার রাজনীতি অর্থাৎ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ইফতারের নামে সমাবেশের আয়োজন করে থাকে সমমনাদের নিয়ে। আবার বিরোধী বলয়েও সৌজন্যমুলক দাওয়াত দেয়া হচ্ছে তা অনেক ক্ষেত্রে তারা কবুল করেন না। সারামাস জুড়েই প্রধান দলগুলো ইফতারের নামে নিজেদেরকে দৃশ্যমান রাখে তবে ছোটদলগুলোও তাদের সাধ ও সাধ্যের মত একিভাবে চলতে চেষ্টা করে। শুরু হয় পথ শিশু এতিম বাচ্চাদের ডেকে এনে ইফতারের শরিক করানো। তারপর থাকে ধর্মীয় নেতা, আলেম, ওলামা, তারপর একে একে বিভিন্ন স্তরে যেমন জোটের নেতৃত্বে, পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবি, কুটনৈতিক, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিকবৃন্দ। কিন্তু একটা বিষয় লক্ষনীয় তা হলো ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী দল এই ধরনের ইফতার পার্টির বক্তব্যে ধর্মকে পাস কাটিয়ে সরাসরি দোষারোপের রাজনীতিতে চলে যায় যা ধর্মীয় রীতিনীতির সংগে সাংঘর্ষিক কিনা? দ্বিতীয়তঃ যদি তাই হয় তাহলে মনে করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে সে এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত রোজাদার মেহমানদের সামনে কেনই পরনিন্দা, পরচর্চা বিশেষত: সমাজের নেতৃত্বের কাছ থেকে যারা কেহ সরকারে (সাবেক ও চলমান) যারা কেহ দু’হাজার একুশ সালে কিংবা দু’হাজার ত্রিশ সালে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর; তৃতীয়তঃ বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ কেহ সাধারণ, কেহ বিশিষ্ট যারা এই সকল ইফতার দাওয়াতে শরিক হয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে যাদের মধ্যে বিশিষ্ট নাগরিকদের কদর বেশি বিভিন্ন কারণে (হয়ত কেহ পরামর্শক, কেহ নিজের আগ্রহেই খাটেন)। তাদের মধ্যে কেহ দু’ভাগ হয়ে ক্ষমতাসীন দলের পার্টিতে আবার বিরোধী দলের বলয়ে যোগদান করে, কেবল মোনাজাত আর ইফতারের মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ থাকে না, সেখানে রাজনীতি নিয়েও কথাবার্তা হয়, প্রতিযোগী কিংবা প্রতিপক্ষের রাজনীতির প্রতি উস্মাতা দেখানো। এর ভিতর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা হিসাব নিকাশ হয় বিশেষত: জোটকে আরও সম্প্রসারণ কিভাবে করা যায়। গণমাধ্যমে বিশেষত: ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বদৌলতে এই সকল ইফতার মাহফিলের ছবি আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে পাই, কে কার সাথে কথা বলছে, কে কার পাশে বসে রয়েছে যার একটি রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ রোজার মাসে মিটিং মিছিল করা কোনভাবেই শোভা পায়না। তাই ইফতার পর্টিকেই তারা ঘরোয়া রাজনীতির প্লাটফর্ম হিসাবে বেছে নেয়।
আমার বিশ্বাস যারা নিয়মিত রোজাদার তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। তবে যে কোন আয়োজন রোজার মাসে যদি জনকল্যাণমূখী ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত হয় তবে তা সমর্থনযোগ্য রাজনৈতিক মতাদর্শের বলয়ে নয়। তবে নিস্বার্থভাবে দাওয়াত দেয়া ও দাওয়াত গ্রহণ করাকে সমর্থন করা যায় বিশেষত: রোজার মাসের অবয়বে। তবে দেশের দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে দাওয়াত পত্র চালাচালি অনেকটা শুভ লক্ষণ হলেও অন্তত: রোজার মাসের ইফতারী দাওয়াত অনেক বেশী সওয়াবের বিধায় অংশ গ্রহণ করা উচিত আল্লাহর ইবাদত বান্দা হিসাবে। কিন্তু পরিবেশ বিশ্লেষণে দেখা যায় কোন অনুষ্ঠানে সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সকল মত বা ধর্ম তুলে নিয়ে একসংগে বসা কিংবা খানাপিনার রেওয়াজ ক্রমশই ক্ষীন হয়ে যাচ্ছে যা সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণার উপাদান কিংবা চিন্তার কারণ। এরি মধ্যে রোজাদারদের মধ্যে এই রমজান মাসে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ওমরাহ পালনে মক্কা শরীফ যাওয়ার হিরিক পড়েছে বিশেষত: রাজনৈতিক নেতা নেতৃদের মাঝে যারা এই পবিত্র ভূমিতে একসাথে ইফতার কিংবা কাবা শরিফে তওয়াফ করেন। কিন্তু দেশের মধ্যে তা অনেকটা করতে দ্বিধান্বিত হয় ভিন্ন মতাদর্শের কারনে “কেহ যদি দেখে ফেলে” কিন্তু দিনের আলোকে ভিন্নমত আবার রাতের আধারে একমত এই রকম কৃষ্টি আমাদের রাজনৈতিক অংগে আছে যা খুবি ইন্টাররেস্টিং। তারপরে সৃষ্টিকর্তার (আল্লাহর) কাছে আরজি জানাই তিনি যেন রোজার মাসে বান্দাদের হেফাজত করেন, ভেদাভেদ গোচানোর শক্তি দেন। কারন রোজা হলো এক মাস কিন্তু এর শিক্ষা হলো বার মাস।
লেখক: গবেষক ও ডীন, সিটি ইউনিভার্সিটি।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



