মিহির কুমার রায়

সরগরম ঈদের অর্থনীতি

ড. মিহির কুমার রায়: রমজানের অর্থনীতি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরা এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সরকার ও ব্যবসায়ীদের আন্তরিক কার্যকর পদক্ষেপ জনগণ আশা করে। 

বাজার গবেষকবৃন্দ বলছেন- নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে একটি বিষয় সব সময় লক্ষ্য করা যায়, যেমন- যখন খুচরা ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করা হয়- এ পণ্যের দাম বেশি কেন? তার তাৎক্ষণিক উত্তর হবে, পাইকারি বাজারে দাম বেশি বলে। কিন্তু একই বাজারে যখন খুচরা বিক্রির তিন দোকানে তিন রকম দাম দেখা যায় তখন মনে প্রশ্ন জাগে, যা গবেষককে ভাবিয়ে তোলে- এর কারণ কি? এর মানে হচ্ছে বাজার মনিটরিং বলতে কিছু নেই।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, চিনি থেকে শুরু করে ভোজ্যতেল খাদ্য ও কৃষি খাতের সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। একই পরিস্থিতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, কয়লাসহ প্রায় সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে। এমনকি কৃষির অপরিহার্য উপকরণ সারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী মূল্য মানে এসব পণ্য বাড়তি দামেই কিনতে হবে বংলাদেশকে।

মানুষের জীবনধারণ, কৃষি, অবকাঠামো, শিল্পসহ পুরো অর্থনীতিতে এর প্রভাব অনেক। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর অত্যধিক নির্ভরতায় বারবারই দামজনিত অভিঘাতের সম্মুখীন হতে হয়, যার একটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান জরুরি।

২৪ মার্চ থেকে মাহে রমজান শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৩ অথবা ২৪ এপ্রিল ঈদ অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হতে পারে। মাহে রমজানের ফজিলতের কথা কম-বেশি আমরা সবাই জানি। অন্যদিকে দেখা যায় রমজান যেন খাদ্যোৎসবের মাস। যেখানে রোজাদাররা বেশি বেশি খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত থাকে। দাম যতই বাড়ুক না কেন বেশি দাম দিয়ে হলেও তা কিনতে হবে। 

ইফতার বা সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার না থাকলে রোজা যেন পূর্ণতা পায় না। কেউ কেউ রমজান মাসের কথা চিন্তা করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ঘরে বেশি করে মজুত করতে থাকে। ঈদ সামনে রেখে শুরু হয় কেনাকাটার ধুম।

রমজানের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো এ মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি অনেক বেড়ে যায়। অনেক ভোজ্যপণ্যের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে এসব পণ্যের উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণন বৃদ্ধি পায়। 

ইফতার বাজার বসে রোজার মাসে, অনেকের সাময়িক কর্মসংস্থান হয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চাঙ্গা হয়, নতুন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ব্যবসা রোজার মাসে বহুগুণে বেড়ে যায়, তাদের পুঁজি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মচারীদের বেতনসহ সব কিছু এ মাসের ব্যবসা দিয়ে চলে।

রোজার মাসে অর্থের প্রবাহ ব্যাপকভাবে বাড়ে। ব্যাংকের অলস অর্থ থেকে কিছু অর্থ গ্রাহকদের হাতে এসে সক্রিয় হয়, তা থেকে দান-সদকা, হাদিয়া, জাকাত-ফিতরার মাধ্যমে কিছু অর্থ গরিবের কাছে আসে। পরবর্তী সময় তা আবার বাজারে যায়। বাজার থেকে ব্যবসায়ীর মূলধন হয় কিংবা ফের ব্যাংকে জমা পড়ে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যে অর্থের প্রয়োজন তার বড় একটা অংশ আসে রোজার মাসেই। রোজা শেষে আসে ঈদ। সাধ্যমতো নতুন পোশাক ও প্রসাধনী ক্রয়ের চেষ্টা সবারই থাকে। এর প্রভাবে অর্থনীতিতে প্রবল গতি আসে। পরিবহন খাতেও ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

ঈদ উপলক্ষে নগরবাসী গ্রামে ছোটে, রেল, বাস, লঞ্চের যাত্রী বহুগুণে বেড়ে যায়। ঈদে অনেকে পর্যটনমুখী হয়। যার ফলে অর্থনীতির সচলতা বাড়ে। সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে রোজার ভূমিকা অপরিসীম। কারণ, এ মাসে গরিব-দুঃখীদের প্রতি সম্পদশালীদের সহানুভূতি জাগে। 

ব্যাপকভাবে দানের হাত সম্প্রসারিত হয়। রোজাদার ধনী ব্যক্তি রমজান মাসে জাকাত প্রদান এবং মুক্তহস্তে দান-খয়রাত ও সদকা আদায় করেন, যা সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টিতে সহায়ক হয়। রমজানে ধনী ব্যক্তি বেশি পরিমাণে ধন-সম্পদ জমিয়ে রাখতে পারেন না। ফলে পণ্যের সরবরাহ বাড়ে।

রমজানে ঈদ অর্থনীতি ও বাংলাদেশের বাস্তবতা নিয়ে যে বিষয়টি দেখা যায় তা সহজেই অনুমেয় বলে বিবেচিত। দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা অর্জনের আশায় এ সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে কোন পণ্য রমজান মাসে বেশি ব্যবহার হবে, রোজাদাররা কোন পণ্যটি দাম বাড়লেও কিনতে চাইবে ইত্যাদি। তারা রোজার অনেক আগে থেকেই খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। ঈদ সামনে রেখে শুরু হয় কেনাকাটার ধুম। রমজানের প্রকৃত ফজিলত নিয়ে তেমনভাবে ভাবনার অবকাশ কমই দেখা যায়।

নিম্নে আয়ের মানুষ বছরের এ মাসটিতে কিভাবে রোজা রাখবে বা উচ্চমূল্য দিয়ে দ্রব্যাদি কিনে কিভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করবে তা নিয়ে দেশের অধিকাংশ বিত্তশালীকে কম ভাবতে দেখা যায়। রমজান এলে এ দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের প্রস্তুতি তৈরি হয়। তারা এ পবিত্র মাসে আধ্যাত্মিকভাবে পুণ্য অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নেন, আবার কেউ প্রস্তুতি নেন সেহরি-ইফতার নানা পরিকল্পনায় উদ্যাপনের জন্য।

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী যেখানে বিশেষ ছাড় দিয়ে দ্রব্যমূল্য কমিয়ে ধর্মীয় পর্বের উপহার নিয়ে আসেন সাধারণ ক্রেতার কাছে, সেখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রমজানে ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নামেন, যা কাম্য নয়। 

যেমন- বাংলাদেশে রমজান শুরু হওয়ার আগেই বাড়তে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, যা ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ গেছে পণ্যবাজারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রোজার মাসে কেন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়? উত্তরে বলা হবে যে, চাহিদা বাড়ছে।

তাই জোগান স্বল্পতায় ভারসাম্য আনতে গিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। আদৌ কি তাই? পণ্যগুলো কি পরিমাণ লাগবে এগুলো কি আমাদের অজানা? কোন কোন দ্রব্য কি পরিমাণে দরকার তা জানা থাকলে, কেন পণ্যের জোগানে স্বল্পতা দেখা যায়? কেন দাম হু-হু করে বেড়ে যায়? নাকি কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে জোগান স্বল্পতার দোহাই দিচ্ছি আমরা? চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে পূর্ণমাত্রায় ভারসাম্য বজায় থাকার কথা।

শুধু পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করলেই হবে না, সব পেশার মানুষের ক্রয়ক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য রেখে সরকারকে পণ্যের ন্যায্যমূল্য ঠিক করে দিতে হবে। সংবিধান মতে ভোক্তাসাধারণের জন্য দাম সহনীয় রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, যার জন্য প্রয়োজন ক্রমাগত বাজার ব্যবস্থাপনা ও বাজার মনিটরিং। অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে। 

যেমন: একজন ব্যবসায়ী বলেছেন দোকান খোলা রাখা হয়েছে লাভের জন্য নয়, কেবল বেঁচে থাকার জন্য, কর্মচারীদের বেতন ও দোকানের ভাড়া পরিশোধের জন্য, যা জীবনের এক  চমৎকার শিক্ষা বলে বিবেচিত। পবিত্র ইসলামে অতিরিক্ত মূল্য আদায় কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। 

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ব্যবসায়ীরা যদি সীমাতিরিক্ত মূল্য আদায় করে এ সুযোগে যে,  ক্রেতা পণ্যের মূল্য জানে না তাহলে অতিরিক্ত পরিমাণের মূল্য সুদ হিসেবে গণ্য হবে।’

আবার মজুতদারি সম্পর্কে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,  ‘মজুতদার খুব নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায় তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে, আর দাম বেড়ে গেলে আনন্দিত হয়’ (মেশকাত)। 

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের অমীয় বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয় রমজান। রমজান ও ঈদ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অবাধ মুক্ত বিশ্বাস ও যথার্থ জীবন-দর্শন উন্মোচন করে হাজার বছরের সংস্কার এবং ধর্মান্ধতার বৃত্ত ভেঙে পবিত্র কুরআন মানব জগৎকে করেছে অপরিমেয় আলোকবর্তিকায় উদ্ভাসিত।

ইমান, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত- এই পাঁচটি পবিত্র ইসলামের মূল ভিত্তি। এর মধ্যেই নামাজ-রোজা-জাকাতকে ঘিরে যে মাসটি সবচেয়ে সমাদৃত সে মাসকেই যথাযোগ্য মর্যাদাসীন করার উদ্দেশ্যে মাস শেষে সর্বজনীন ঈদ বা সর্বোচ্চ উৎসবের দিন ধার্য করা হয়। পবিত্র রমজান মাসে ধার্মিক মুসলমান আত্মিক উৎকর্ষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে রোজা আদায় করেন। 

তাই রমজানের অর্থনীতি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরা এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সরকার ও ব্যবসায়ীদের আন্তরিক কার্যকর পদক্ষেপ জনগণ আশা করে। বাজার গবেষকবৃন্দ বলছেন- নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে একটি বিষয় সব সময় লক্ষ্য করা যায়, যেমন- যখন খুচরা ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করা হয়- এ পণ্যের দাম বেশি কেন? তার তাৎক্ষণিক উত্তর হবে, পাইকারি বাজারে দাম বেশি বলে।

কিন্তু একই বাজারে যখন খুচরা বিক্রির তিন দোকানে তিন রকম দাম দেখা যায় তখন মনে প্রশ্ন জাগে, যা গবেষককে ভাবিয়ে তোলে- এর কারণ কি? এর মানে হচ্ছে বাজার মনিটরিং বলতে কিছু নেই। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, চিনি থেকে শুরু করে ভোজ্যতেল খাদ্য ও কৃষি খাতের সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে।

একই পরিস্থিতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, কয়লাসহ প্রায় সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে। এমনকি কৃষির অপরিহার্য উপকরণ সারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী মূল্য মানে এসব পণ্য বাড়তি দামেই কিনতে হবে বংলাদেশকে। মানুষের জীবনধারণ, কৃষি, অবকাঠামো, শিল্পসহ পুরো অর্থনীতিতে এর প্রভাব অনেক। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর অত্যধিক নির্ভরতায় বারবারই দামজনিত অভিঘাতের সম্মুখীন হতে হয়, যার একটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান জরুরি। 

সেক্ষেত্রে দেশে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে অন্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো যায় সেদিকে নজর নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও কৃষিপণ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টিতে বারবার জোর দিয়েছেন, যা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি দপ্তরকে বিশেষ সক্রিয় হতে হবে।

এটাও সত্য যে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়লেও বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় নাও থাকতে পারে। যেমন- মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পণ্যের দাম নির্ভর করে চাহিদা ও পর্যাপ্ত সরবরাহের ওপর। তাই বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে খাদ্যপণ্যের সরকারি মজুত বৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটের কারসাজির দিকেও কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। 

বাজারে চালাতে হবে নিয়মিত অভিযান। দায়ীদের চিহ্নিত করে নিশ্চিত করতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে রাষ্ট্রের কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সুলভ মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে  সরকারি বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আমদানি মূল্যের সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান যাতে বেশি না হয় তা তারা নজরে রাখছে।

এমন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে আমরা সুন্দর, সুশৃঙ্খল জীবন ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব। পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় আসন্ন মাহে রমজান শেষে ঈদ পালনে সক্ষম হতে পারব।

সে যাই হোক না কেন, রমজান ও ঈদকে ঘিরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের যে ব্যাপক প্রসার ঘটে তার একটি বিশ্লেষণধর্মী আলোচনাই এই প্রবন্ধের মুখ্য উদ্দেশ্য। ইফতারকেন্দ্রিক বিশেষ ধরনের যে সকল উদ্যোক্তা এরই মধ্যে সারা দেশের রাজধানী ঢাকাসহ জেলা-উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে তারা কি পরিমাণ রোজার মাসজুড়ে ব্যবসা করছে এবং টাকায় এর মূল্য কত তা নিয়ে তেমন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া না গেলেও পরিমাণ যে বিশাল অঙ্কের টাকা সে নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। যা দেশের জিডিপিতে মূল্য সংযোজন করছে বিপুলভাবে।

আবার যারা পারিবারিক পর্যায়ে ইফতারের ব্যবস্থা করে থাকে তাদেরও একইভাবে বাজারের ওপর নির্ভর হতে হয়। যার বেশিরভাগ উপকরণ আসে কৃষি খাত থেকে। যার উৎপাদনে সরকার বাজেটের আওতায় কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে, যাতে মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকে। 

তারপরও পবিত্র রমজান মাসের জন্য সরকার কৃষিপণ্য/খাদ্য সরবরাহে বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা করে থাকে, বিশেষত  মধ্যবিত্ত/দরিদ্র শ্রেণির কথা বিবেচনায় রেখে। উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটার ব্যাপারটি যেন ঐতিহ্যের,  সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।

দিনে দিনে আর্থিক সক্ষমতা,  ক্রয় সামর্থ্য বেড়ে যাওয়ায় উৎসবকে কেন্দ্র করে বাজারের সম্প্রসারণ ঘটেছে। তবে এ বছর বাংলা নববর্ষ, মাহে রমজান এবং আমাদের অর্থনীতিতে চাঙাভাব ধরে রাখার স্বার্থে বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে ভোক্তা অধিকার ও স্বার্থসংরক্ষণের বিষয়টিকে বেশি জোর দিতে হবে। 

লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।


Comment As:

Comment (0)