বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা
ড: মিহির কুমার রায়: বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সদস্যভুক্ত একটি দেশ এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সদস্য হয়। ওই বছরেরই ৩১ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বব্যাংকের তখনকার প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা, এর পর অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে প্রথম ঋণ নেয় বাংলাদেশ, যার পরিমাণ ছিল ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা নেওয়া হয় জরুরি অগ্রাধিকার খাতে। একই বছরের নভেম্বরে যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে প্রথম বাংলাদেশে পানি সরবরাহ খাতের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করে আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানটি। এর পর থেকে বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ নেয় বিশ্বব্যাংক থেকে। সত্তরের দশকে মূলত পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রকল্পেই বেশি অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক, আশির দশকে কৃষি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে এই সংস্থাটি, ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে সংস্কারে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প হয়, এ দুটি প্রকল্প হলো বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু (যমুনা সেতু) এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (দুই লেন) নির্মাণ।
বিগত ১লা মে, সোমবার ২০২৩ তারিখে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরের প্রিস্টন অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ অংশীদারত্বের ৫০ বছরের প্রতিফলন’ শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানটি ছিল ভিন্নধর্মী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে পৌঁছালে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক এবং তার এসএআর ভিপি মার্টিন রাইসার ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী একটি নাচের অনুষ্ঠানও প্রত্যক্ষ করেন। সংস্থাটির সদর দপ্তরে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে এ ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান আগে কখনই হয়নি। অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। সেই সঙ্গে আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বৈশ্বিক ঋণদাতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমি আশা করি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য আমাদের উৎসাহব্যঞ্জক যাত্রায় বিশ্বব্যাংক পাশে থাকবে। আসুন, আমরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য যৌথ আস্থার চেতনায় একসঙ্গে কাজ করি। এরপর বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে ৫০ বছরের বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্ব উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। এরপর তারা প্রদর্শনীর কিছু অংশ ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা লোকদের উন্নয়নের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলাদেশকে একটি সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভূমিতে পরিণত করার জন্য আমাদের সরকারের সংকল্পের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার জন্য বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দুস্থ মানুষের মধ্যে যে ধরনের হাসি দেখতে চেয়েছিলেন এ প্রদর্শনীতে তা প্রতিফলিত হচ্ছে।
বিগত কয়েক মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে, এ বিষয়ে তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। বিগত ৫০ বছরে প্রায় ৩ হাজার ৯শ’ কোটি ডলার ঋণ মিলেছে, ৫৭টি চলমান প্রকল্পে এক হাজার ৬শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে যার ভিতর দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এই অধ্যায় এমন এক সময় রচিত হলো যখন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্ধশতক বছর পার করেছে বাংলাদেশ, সত্তরের দশকের শুরুতে উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক যতটুকু ধারণা করেছিল সেটিকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ, বিশ্বব্যাংক এখন বলছে, উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, কখনো বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের সফল আখ্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে দাতা সংস্থাটি।
স্বভাবতই বাংলাদেশও বিশ্বব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে পাশে চায়। মনে রাখতে হবে, পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতি এবং তাদের উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান মিলেমিশে আছে। বিশ্বব্যাংক ভূরাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। একথা সত্য, বিশ্বব্যাংক আলাদা একটি সংস্থা হিসেবে কাজ করে, কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন মানে পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভালো হওয়ার সুযোগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টন্ত রাখছে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে। জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গত পাঁচ দশকের সম্পর্ক সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে যদিও পরবর্তিতে নিজস্ব অর্থায়নে ৩২ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু তৈরী করেছে যা বিশ্বের বিস্ময়। প্রায় এক বছর ধরে এই সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল করছে, দেশের অর্থনীতির চাকা আরও সচল করেছে, কিছুদিন পর ছুটবে ট্রেন, অথচ এই বিশ্বব্যাংক একসময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশে ভৌত অবকাঠামোগত প্রকল্পে তারা ভেবেচিন্তে ঋণ দেবে। খুব দ্রুতই আবার সিদ্ধান্ত বদলায় সংস্থাটি। পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে আসার পরও বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। যেমন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন মনে করেন ছয় থেকে বারো মাসের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের একটি শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, পদ্মা সেতু থেকে সরে আসার পরে বিশ্বব্যাংক তাদের কান্ট্রি অ্যাসিস্ট্যান্ট স্ট্র্যাটেজি রিভিউ করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, বাংলাদেশে ভৌত অবকাঠামোগত হাই রিস্ক প্রকল্পে তারা ভেবেচিন্তে ঋণ দেবে। কিন্তু পরে বিশ্বব্যাংকের ভেতর থেকেই একটা আপত্তি আসে যে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ভৌত অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা না করলে উন্নয়নে অবদান কীভাবে রাখা যাবে! তবে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে আসার পর বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তিনি আরও বলেন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশ্বব্যাংকের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, যেমন স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় চার হাজার কোটি ডলার সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান দিয়েছে মূলত: তিনভাবে, এগুলো হলো-বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়, এছাড়া পরামর্শক সেবা দিয়ে থাকে, যেমন উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অনেক সময় পলিসি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে সহায়তা দেয়, এর বাইরে কারিগরি সহায়তা হিসেবেও সহায়তা দেয় বিশ্বব্যাংক, যেমন দারিদ্র্য নিয়ে জরিপ করা, এর প্রশ্নপত্র তৈরি, কম্পিউটারসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ইত্যাদি দিয়ে দেওয়া হয়, এক্ষেত্রে অনুদানও দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাংকের যে শাখা - ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) - নিম্ন আয়ের দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য ঋণ দেয়, তাদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশ বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশেরও সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সত্তরের দশকের শুরুতে উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা সম্পর্কে ব্যাংক যতটুকু ধারণা করেছিল সেটিকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ, গত ৫০ বছরে আইডিএ’র কাছ থেকে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ আর কম সুদে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্থ কাজে লেগেছে দারিদ্র্য বিমোচনে, রাস্তাঘাট, ভবনসহ বড় অবকাঠামো নির্মাণেও, এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাংক দশকের পর দশক অর্থ দিয়ে আসছে, যা বর্তমানে ৫৭টি চলমান প্রকল্পে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বিশ্বব্যাংক।
অতি সম্প্রতি পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২.২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা নিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। প্রকল্প পাঁচটি হলো-১. ‘অ্যাকসিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া প্রোগ্রাম পেইজ-(১) এর আওতায় পরিবহন ও ট্রেন কানেকটিভিটি বাড়াতে ৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প। এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কানেকটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করবে;- (২) ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ‘রেজিলিয়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রকল্প’। এটি ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে প্রথম বড় বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে; (৩) ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রথম বাংলাদেশ সবুজ ও জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়ন প্রকল্প। এটি দেশকে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে; (৪) ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্র্যান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্প। এটি ক্ষুদ্র শিল্প সেক্টরকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, দক্ষ এবং জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির খাতে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে (৫) ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবলিটি এন্ড ট্রান্সফরমেশন প্রকল্প।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র নিজ চোখে দেখতে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ গত জানুয়ারীতে ঢাকায় এসেছিলেন - যা বাংলাদেশে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক তিন দিনের সফর। এ ছাড়াও তিনি বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার। তাছাড়াও বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে সুন্দর সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করতেই মূলত তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকা সফর উপলক্ষে এক বিবৃতিতে অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেছিলেন, ‘মানব উন্নযন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু অভিযোজনে সফল উদ্ভাবনের মাধ্যমে দারিদ্র্য কমাতে কী করা যেতে পারে তা বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সঙ্গে তার ৫০ বছরের অংশীদারত্ব এবং দেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন যাত্রার অংশ হিসেবে গর্বিত। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তাকারী প্রথম উন্নযন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। তারপর থেকে এই দাতা সংস্থাটি প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ঋণ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যার বেশিরভাগই অনুদান বা রেয়াতি ঋণের (কম সুদে)। বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) বৃহত্তম চলমান কর্মসূচি রযেছে। পরে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সভায় বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তিনি বিশেষত: দারিদ্র দূরীকরণে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়োচিত পদক্ষেপও অন্যের জন্য শিক্ষণীয়। বাংলাদেশের উচ্চমধ্যম আয়ের দেশের অভিষ্ঠে পৌছাতে বিশ্বব্যাংকের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন এবং তিনি বিশ্ব ব্যাংকের খসড়া ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ)’ নিয়েও আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সিপিএফে বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে, তারপর তিনি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অংশীদারত্ব সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে ছিলেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে এই উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। উদযাপন অনুষ্ঠানের ফাঁকে সম্মেলন কেন্দ্রটির কার্নিভাল হলে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এবং বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যৌথভাবে একটি মাল্টিমিডিয়া ফটো প্রদর্শনী ‘এ জার্নি টুগেদার’ উদ্বোধন করেছিলেন।
সর্বশেষ কথা হলো প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংক সফর দেশের ভাবমূর্ত্তিকে অনেকাংশে সুদৃঢ় করেছে যা দেশের এই রুপান্তরের সময়ে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন।
লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ডিন, সিটি ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা ও সাবেক জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবীদ সমিতি, ঢাকা।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



